কুয়াকাটায় প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পালিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। রোববার সন্ধ্যায় কুয়াকাটার আকাশে শতাধিক ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায় ধর্মীয় প্রবারণা উৎসবে আকাশে উড়ায় রঙ-বেরঙের ফানুস।

কুয়াকাটায় প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে

প্রবারণা শব্দের অর্থ আত্মনিবেদন। আর ফানুস শব্দের অর্থ আকাশ-বাতি। কুয়াকাটাসহ কলাপাড়া উপজেলার ২৮টি রাখাইন পল্লীর অধিবাসীরা রোববার সন্ধ্যার আকাশে শত শত ফানুস উড়িয়ে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করেন।

বৌদ্ধ বিহারগুলো আলোক সজ্জা করা হয়। মূলত প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে আকাশবাতি বা ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে গৌতম বৌদ্ধের অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুখ শান্তি আর কল্যাণ কামনা করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ।

জানা গেছে, বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত শুরু হয়ে এ পূর্ণিমাতে শেষ হয়। কার্তিকের এ পূর্ণিমা তিথিতে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায় প্রবারণা উৎসব পালন করেন। এ সময় বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ৩ দিনব্যাপী গৌতম বুদ্ধের স্মরণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করা হয়। রাতে আকাশে উড়ানো হয় নানা রঙের ফানুস। এ দিনে রাখাইনরা আপ্যায়ন, অভিলাষ পূরণ, ধ্যান শিক্ষা ও কর্মসম্পাদনের লক্ষ্যে প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন বিহারে গমন করেন। 

গোড়া আমখোলা পাড়ার বিজয় রামা বিহারের ভিক্ষু উ-সুচিটা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। এ দিন গৌতম বুদ্ধ ধর্মপ্রচার শুরু করেন। এ কারণে দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু ও গৌতম বুদ্ধ পাঠাগারের গবেষক উত্তম ভিক্ষু বলেন, গৌতম বুদ্ধ সমাজ-সংসারের মায়া ত্যাগ করে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন ধর্মপ্রচারের কাজে। তিনি মূলত শাসক ছিলেন। পরে এক সময় তার বোধোদয় হয় তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে ধর্মপ্রচারের কাজে। তখন তিনি গৃহত্যাগ করেছিলেন। ভারতের কপিলাবস্তু নামক স্থানে পুণ্যকর্ম সম্পাদন করেন। পরে লোকালয়ে ফিরলে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি অনেকেই। এ সময় নিজের চুল তলোয়ার দিয়ে কেটে আকাশ পানে ছুড়ে মেরেছিলেন। ওই চুল আর নিচে ফিরে আসেননি বলে গৌতম বুদ্ধ পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন।  গৌতম বুদ্ধকে মনে করতে সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শুভ প্রবারণা উৎসবে প্রতি বছর এ পূর্ণিমায় নানা ধর্মীয় কাজ শেষ হলে ফানুস  উড়িয়ে থাকেন

পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ারের সভাপতি বাবু এমং তালুকদার বলেন, কুয়াকাটাসহ কলাপাড়া উপজেলার ২৮টি পল্লীর রাখাইনরা তিন দিন ধরে এ উৎসব এক যোগে পালন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার আবুল খায়ের বলেন, এটি রাখাইনদের উৎসব হলেও বর্তমানে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিটি পাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।