জম্মু ও কাশ্মীর পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে

অমিত শাহ তিন দিনের সফরে জম্মু ও কাশ্মীরে রয়েছেন। গত বুধবার সফরের প্রথম দিনে তিনি শ্রীনগরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ২৪০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জম্মু ও কাশ্মীর পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে

এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লায় বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

এই অঞ্চলে একটি জনসভায় ভাষণও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

ভাষণে তিনি বলেন, পীর পাঞ্জাল, চেনাবের পাহাড় এবং কাশ্মীর উপত্যকার এই অঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

তিনি আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিটি গ্রামে গণতন্ত্র পৌঁছেছে সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি বিশাল কাজ করেছেন। আগে কাশ্মীরে গণতন্ত্রের অর্থ তিনটি পরিবার, ৮৭ জন বিধায়ক এবং ছয়জন এমপির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেটিকে পঞ্চ, সরপঞ্চ, বিডিসি ও জেলা পঞ্চায়েতের স্তরে নিয়ে গিয়ে ৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর প্রথমবারের মতো কাশ্মীরের বারামুল্লায় বক্তব্য দেন অমিত শাহ। এ সময় তিনি ‘সত্তর বছর ধরে কাশ্মীর শাসনকারী তিনটি পরিবারের’ বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ তুলে ধরেন।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, আগে গরিবের টাকা অপব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিশ্চিত করছেন যে, গরিবের টাকা গরিবের কাছে পৌঁছাবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সত্তর বছরে তিনটি পরিবারের শাসনামলে জম্মু ও কাশ্মীরে মাত্র ১৫ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ এসেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে মাত্র তিন বছরে ৫৬ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ এসেছে।

তিনি বলেন, আগে এ অঞ্চলটি সন্ত্রাসবাদের হটস্পট ছিল; কিন্তু এখন এটি পর্যটনের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ ৬ লাখ পর্যটক প্রতি বছর কাশ্মীর উপত্যকা ভ্রমণ করতেন। সেখানে শুধু এ বছর এখন পর্যন্ত ২২ লাখ পর্যটক অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

অমিত শাহ বলেন, আগে এই উপত্যকার যুবকদের হাতে পাথর এবং বন্দুক তুলে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেগুলো মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন। এ অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ বিশ্বের কোনো মঙ্গল ঘটায়নি। ১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে ৪২ হাজার মানুষ সন্ত্রাসবাদের কারণে মারা গেছেন। এখন ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা হচ্ছে।

সূত্র: এএনআই।