ঢাবির বঙ্গমাতা হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কথা কাটাকাটির মাধ্যমে ঘটনার শুরু হয়।

ঢাবির বঙ্গমাতা হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

এরপর থেমে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। রাত ১০টার দিকে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গিয়ে হল প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হল সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপসম্পাদক তানিয়া আক্তার তাপসী হল সভাপতি-সেক্রেটারির সঙ্গে না গিয়ে অন্য গ্রুপ করতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলাদা শাড়ি দেওয়ার দাবি করেন। কিন্তু সভাপতি-সেক্রেটারি শাড়ি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাপসী বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকতকে জানালে সৈকত শাড়ি ছাড়া আসতে বলেন।

পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলাদাভাবে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় হলে যান তানিয়া। সে সময় তাপসী হল সভাপতি কোহিনূর আক্তার রাখি এবং সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমিন তাকে হল থেকে বের দিতে গেলে দুই গ্রুপে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন– কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপসম্পাদক ও হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রনক জাহান রাইন, প্রশিক্ষণ উপ-সম্পাদক তানিয়া আক্তার তাপসী, ছাত্রলীগ কর্মী সোলতানা ও সাধারণ শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার। আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টার থেকে তারা  প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ছিল। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। হল প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। আশা করি সুষ্ঠু একটা সমাধান হবে।’

আহত রনক জাহান রাইন বলেন, ‘ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসেছেন। তারা বিষয়টি সমাধান করবেন। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘হল প্রাধ্যক্ষ ও ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ করছি। একটি সুন্দর সমাধানের পথে আমরা যেতে পারবো বলে আশা রাখছি।’

হাতাহাতি এবং  মারধরের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা হল ছাত্রলীগের সভাপতি কোহিনূর আক্তার রাখি এবং  সাধারণ সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিনকে ফোন দেওয়া হলে তারা রিসিভ করেননি।