তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

দেশের উত্তরের জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে উত্তরের জনপদের মানুষ। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দিকে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডিসেম্বরের শেষ সময়ে তাপমাত্রা কমে আসায় শীতে নাকাল উত্তরের জনপদ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, কদিন ধরেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে এসেছে। কদিন ধরে ঘনকুয়াশা থাকলেও শুক্রবার কুয়াশা দেখা যায়নি। তবে কনকনে শীতে সাধারণ মানুষের অবস্থা নাজুক। সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত নেমে আসে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শীত অনুভূত হয়। দিনেও আগের মতো গরম নেই। বিকাল গড়ালেই ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে। 

এতে করে হাড়কাঁপানো শীত পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কনকনে শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকেই। তবে পেটের তাগিদে কাউকে নদীতে পাথর তুলতে এবং কাউকে চা-বাগানে আবার কাউকে দিনমজুরের কাজ করতেও  যেতে দেখা গেছে।  

চা-শ্রমিক বাদল, বাবু ও হায়াত জানান, কয়েকদিন ধরে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে চা-বাগানের পাতা তুলতে গিয়ে হাত-পাতা অবশ হয়ে আসে। তারপরও কাজ করতে হচ্ছে।

পাথর শ্রমিক জমিরন, তাসলিমা ও রমিনাসহ কয়েকজন নারী শ্রমজীবী নারী জানান, আমরা আজানের পর পরই ঘুম থেকে উঠি। কদিন ধরে খুব ঠাণ্ডা। ঘরের মেঝে, আসবাবপত্র সব বরফের মতো লাগে। হাতপা অবশ হয়ে আসে। তারপরও কাজ শেষ করে পেটের দায়ে পাথরের কাজে যেতে হচ্ছে।

এদিকে দিন-রাতে তাপমাত্রা দুই রকম থাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। এমনিতে শীত মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ হিসেবে সর্দি-কাঁশি, শ্বাসকষ্ট বেশি হয়ে থাকে। আর শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে কিছুটা হলেও সুরক্ষা মিলবে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ওসি রাসেল শাহ বলেন, তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সামনে তাপমাত্রা আরও নিচের দিকে নামতে পারে বলে তিনি জানান।