সুন্দরবন দেখতে গিয়ে পর্যটকবাহী নৌযানে পর্যটকের মৃত্যু

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর অপরূপ সৌন্দার্যের লীলাভূমি সুন্দরবন দেখা হলোনা পর্যটক কাজী মিন্টুর (৩১)। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছে হটাৎ অসুস্থ হয়ে পর্যটকবাহী নৌযানে মারা গেলেন তিনি।

সুন্দরবন দেখতে গিয়ে পর্যটকবাহী নৌযানে পর্যটকের মৃত্যু

 

সোমবার সকালে নিকট আত্মীয়সহ ৩৪ জন পর্যটকের সাথে মোংলা থেকে নৌযানে করে করমজল পর্যটন কেন্দ্রের কাছে পৌঁছে মিন্টু হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে মোংলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিন্টুর মৃত্যুর খবরে তার সাথে আসা দুলাভাই মিলনসহ ৩৪ জন পর্যটকের কান্নায় মোংলা হাসপাতালে হৃদয় বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।  

কাজী মিন্টু খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গার কাজী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। মিন্টুর স্ত্রী ও ৪ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

মিন্টুর সাথে সুন্দরবন দেখতে আসা তার দুলাভাই মিলন জানান, ‘তারা ৩৫ জনের পর্যটক দল রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থেকে বাগেরহাটের মোংলায় আসেন।

সোমবার সকালে তারা পর্যটকবাহী নৌযানে করে মোংলা থেকে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছে যান। এসময়ে হঠাৎ মিন্টু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীর প্রচণ্ড ঘেমে দু’বার বমিও করেন। দ্রুত তারা সবাই সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে না গিয়ে দ্রুত মিন্টুকে নিয়ে মোংলা হাসপাতালের উদেশ্যে রওনা দেন।

মোংলায় পৌঁছে মিন্টুকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা করে জানান মিন্টু মারা গেছেন। মিন্টুর আর সুন্দরবন দেখা হলো না। এখন আমরা ৩৪ জন পর্যটকই মিন্টুর লাশ সাথে নিয়ে খুলানায় ফিরে যাচ্ছি’, একথা বলে মিন্টুর দুলাভাই মিলন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।  

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই পর্যটক মিন্টুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক নমুনা দেখে মনে হয়েছে স্ট্রোকজনিত কারণেই সে মারা গেছেন’।

 

মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র ঘোষ জানান, চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী মিন্টু স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। লাশ তার স্ত্রী ও দুলাভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।