হোটেল ভাড়া-খাবারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ খাগড়াছড়িতে

গাড়ি, হোটেলের কক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা থেকে আগত কিছু পর্যটক । তারা জানান, ক্লান্তি দূর করতে দুদিন আগে পাঁচ বন্ধু মিলে সাজেকে এসেছেন। মেঘের কোলে সাজেক ভ্যালি দেখতে অসাধারণ লেগেছে তাদের। দুদিনে সাজেকসহ খাগড়াছড়ির ১০টি পর্যটন স্পট ভ্রমণ করেছেন। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে হোটেল, গাড়ি ভাড়া ও খাবার খরচ বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

হোটেল ভাড়া-খাবারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ খাগড়াছড়িতে
হার্টিকালচার পার্ক

দুর্গোৎসব ঘিরে টানা ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বেশ  কিছু প্রতিষ্ঠান। এ সুযোগে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে খাগড়াছড়িতে। পর্যটকদের আগমনে মুখরিত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র । 

গাড়ি, হোটেলের কক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম পর্যটকদের কাছে বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটকরা । লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে  জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন পক্ষ থেকে  জানান, সদর উপজেলার হর্টিকালচার হ্যারিটেজ পার্ক, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা,আলুটিলা বৌদ্ধ বিহার, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, দশবল বৌদ্ধ বিহার, চেঙ্গি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা, মাটিরাঙার শতবর্ষী বটগাছ, উপজেলা প্রশাসন লেক, জলপাহাড়, ভগবান টিলা, রিছাং ঝরনা, মহালছড়ির মনারটেক লেক,  মানিকছড়ির বনলতা অ্যাগ্রো প্রাইভেট, পুরাতন রাজবাড়ি, পানছড়ির অরণ্য কুঠির, মায়াবিনী লেক,দেবতার পুকুর,, রাবার ড্যাম, রামগড়ের কৃত্রিম লেক, চা-বাগান, কলসি মুখ, প্রতিষ্ঠাকালীন বিজিবির ভাস্কর্য, দিঘিনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝরনাসহ শতাধিক পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব পর্যটন স্পটে শনিবার থেকে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। সব হোটেলে  উঠেছেন পর্যটকরা।

হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার এবং সাজেকের সব হোটেল ও কটেজ বুকিং হয়ে গেছে। জেলায় সবমিলিয়ে ১২০ এবং সাজেকে ১১০টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব হোটেলে  ৬০-৭০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু পর্যটক এসেছেন লক্ষাধিক। হোটেলে  জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটক আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে থাকছেন।

হোটেল গাইরিং এর  মালিক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘টানা ছুটিতে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জেলার ৯ উপজেলার প্রায় ৫০টি ছোট-বড় পর্যটন স্পটকে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং ভ্রমণকালীন সময় আনন্দময় করতে গাইড সুবিধা এবং নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রয়েছে।’

খাগড়াছড়ির হোটেল গ্রিন স্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া বলেন, টানা এক সপ্তাহের ছুটিতে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে লাখো পর্যটক এসেছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১০ দিনের জন্য সব হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। শুধু হোটেল নয়, খাগড়াছড়ি-সাজেক রুটে চলাচলকারী শতাধিক গাড়িও বুকিং হয়ে গেছে।

খাবার ও হোটেলের কক্ষ ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইন বুকিং চালু থাকায় হোটেল ভাড়া বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা নির্ধারিত ভাড়াই রাখছি। তবে জ্বালানির দাম বাড়ায় খাবারের দাম একটু বেড়েছে। তাও পর্যটকদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে আছে।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রচুর পর্যটক এসেছেন। পর্যটকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন। হোটেল-মোটেল ও পরিবহন ভাড়া বেশি রাখার ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এরপরও পর্যটকদের কাছ থেকে কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারেন সে ব্যাপারে সতর্ক আছি আমরা। এমনকি পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, খাগড়াছড়িতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। প্রচুর পর্যটক জেলার প্রত্যেকটি পর্যটন স্পটে এসেছেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, ডিবি ও সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন তারা। হয়রানির বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।